বিস্তারিত বিবরণ
Listen
fruits | फल | फळ
mango | आम | आंबा
horticultural | बागवानी | फलोत्पादन
কৃষি জ্ঞান
DeHaat Channel
4 Mar
Follow

আম: ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এভাবে করুন মুকুল রক্ষা । Mango: How to Manage Orchards in February-March Months

আম: ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এভাবে করুন মুকুল রক্ষা । Mango: How to Manage Orchards in February-March Months

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করে। আমের ভালো উৎপাদন পেতে হলে মুকুল এর  সময় বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও রোগের হাত থেকে প্রাকৃতিক দৃশ্যকে রক্ষা করতে এই সময়ে নিয়মিত আম বাগান পরিদর্শন করুন। এর সাহায্যে মুকুল  পড়া, কালো হওয়া, মুকুল গুটি তে পরিণত হওয়া ইত্যাদি থেকে রক্ষা করতে পারি। আম গাছে মুকুল  আসার পর করণীয় কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই পোস্টের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক।

আমের মুকুল কে  প্রভাবিত করে কিছু রোগ।  Diseases Affecting Mango Tree

সাদা গুঁড়ো  রোগ / আমের পাউডারী মিলডিউ রোগ:

প্রথমে আম গাছের কান্ডের উপরিভাগে, কচি ডগা বা মুকুলের অগ্রভাগে সাদা ময়দার মত পাউডার সৃষ্টি করে। আক্রান্ত পুষ্প দন্ড বা ফল দন্ড শুকিয়ে যায়।, আক্রান্ত গাছ থেকে অনুকুল আবহাওয়ায় বাতাসের মাধ্যমে অতি দ্রুত এ রোগ বিস্তার লাভ করে। উষ্ণ আর্দ্রতাযুক্ত আবহাওয়া ও রাতে নিম্ন তাপমাত্রা এ রোগ বিস্তারে সহায়ক।এ রোগের আক্রমণে ক্ষতির পরিমাণ ৭০-৮০% পর্যন্ত হতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে, প্রতি একর জমিতে ৬০০ গ্রাম প্রোপিনেব ৭০% WP প্রয়োগ করুন। ব্যবহার করুন (দেহাত  জিনাক্টো)। এছাড়াও আপনি ৩০০ লিটার জলে  ৩০০ ML  Azoxystrobin 11% + Tebuconazole 18.3% SC যোগ করতে পারেন। (দেহাত AZYTOP ) প্রতি একর জমিতে  স্প্রে করুন ।

আমের পাতার দাগ রোগ:- আমের পাতায় কাল কোণাকৃতির দাগ দেখা যায় ।কচি কান্ড ও ফলেও দাগ দেখা যায় । এটি নিয়ন্ত্রণ করতে , জীবানুমুক্ত বীজ বা কলম রোপন ।ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন। পরিস্কার করার পর একাট ছত্রাক নাশক ও একটি কীটনাশক দ্বারা পুরো গাছ ভালভাবে স্প্রে করুন। স্প্রে করুন প্রোপিনেব ৭০% WP ৩গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন (দেহাত জিনাক্টো) অথবা ক্যাপটান ৭০% + হেক্সাকোনাজোল ৫% (৭৫% WP)  ১ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন।

আমের ফল ঝড়ে যাওয়া সমস্যা :- রোগ বা পোকার আক্রমণে বা দীর্ঘ খরা হলে বা শুষ্ক ও গরম হাওয়ার ফলে শারীরবৃত্তীয় কারণে অথবা মাটিতে সারের ঘাটতি হলেও ফল ঝড়ে যেতে পারে । এটি নিয়ন্ত্রণ করতে , বর্ষার আগে ও পরে বছরে দুইবার গাছের বয়স অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করা। পরিমান মতো  জৈব সার প্রয়োগ করুন । গুটি বাঁধা শুরু হলে আলফা ন্যাপথলিন এসিটিক এসিড ১ ML প্রতি ৪.৫ লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন।   ব্যবহার করুন (বায়ার- প্লানোফিক্স )

ব্ল‍্যাকটিপ / আমের আগা কালো রোগ :-

ফলের শেষ প্রান্তে কালো দাগ ও ফল পচে যায়। কালো দাগ পড়া অংশ থেকে বাদামি আঠা বার হয়।ইট ভাটার কাছাকাছি আম বাগান করবেন না।  কয়লা পোড়ানো ধোঁয়ার জন্য এ রোগ হয়।ফল সংগ্রহ শেষ হলে গাছের মরা ডালপালা, ফলের বোটা, রোগ বা পোকা আক্রান্ত ডাল পালা ও অতিঘন ডাল পালা ছাটাই করে পরিস্কার করে দিন। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে  বোরাক্স (২ গ্রাম) বা অক্টাবোরেট (১ গ্রাম)  প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন।

আমের ফল ফেটে যাওয়া :-

দীর্ঘ খরা হলে বা শুষ্ক ও গরম হাওয়ার ফলে শারীরবৃত্তীয় কারণে অথবা মাটিতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলেও ফল ফেটে যেতে পারে । এটি নিয়ন্ত্রণ করতে বর্ষার আগে ও পরে বছরে দুইবার গাছের বয়স অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ করা। গুটি বাধার পরপরই চিলেটেড বোরন ২০% ,  ০.৫ গ্রাম / লিটার  জলে গুলে  স্প্রে করুন ।  ব্যবহার করুন (দেহাত - ডট )

আমের ঝাঁকড়া পুষ্পগুচ্ছ   বা ম্যালফরমেশন:

এ রোগ কান্ড ও মুকুলে প্রকাশ পায়। এটা এক ধরণের অঙ্গজ বিকৃতি।

কান্ডে পাতায় অসংখ্য ছোট ছোট কুঁড়ি বের হয় এবং এতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাতা হয়। এর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। মুকুল আক্রান্ত হলে অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিরাট আকার ধারণ করে এবং দেখতে অনকটা জটলা বা ঝাঁকড়া হয়। এত কোন ফল ধরে না। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে গাছের আক্রান্ত কান্ড ও মুকুল কিছু সুস্থ অংশ সহ ছাঁটাই করা।রোগমুক্ত গাছ থেকে চারা সংগ্রহ করা। ১ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন প্রতিলিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । মুকুল ধরার তিন মাস আগে প্লানোফেক্স ১ ML  ৪.৫ লিটার জলে গুলে স্প্রে করলে এ রোগের প্রকোপ কমে।

আমের মুকুলে প্রভাবিত করে এমন কিছু পোকা  |  Pests Affecting the Flowers

আমের শোষক পোকা বা হোপার :

আমের শোষক পোকা বা হোপার আকান্ত গাছের কাছে গেলে চটচট শব্দ পাওয়া যায় এবং পোকা গায়ে এসে পড়ে।  শোষক পোকা কচি পাতা ও মুকুল থেকে রস চুষে খায় । আকান্ত মুকুল শুকিয়ে বাদামী হয়ে যায় এবং ঝড়ে পড়ে । এটি নিয়ন্ত্রণ করতে থায়ামেথক্সাম ০.৫ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন (দেহাত Asear )বা অ্যাসিটামিপ্রিড ১গ্রাম প্রতি ৩  লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন ( টাটা - Manik )

আমের মিলিবাগ

সাদা সাদা অসংখ্য পোকা একসাথে থাকে কখনও কখনও বিচ্ছিন্ন ভাবেও থাকে । এরা রস চুষে খায় এবং এক ধরনের আঠালো মিষ্টি রস নিঃস্বরণ করে যা খাবার জন্য পিঁপড়ের  আগমন ঘটে।  এর আক্রমণ বেশি হলে শুটি মোল্ড ছত্রাকের আক্রমণ ঘটে এবং আক্রান্ত অংশ এমনকি পুরো গাছ মরে যায় । এটি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রথমে পরিষ্কার জল দিয়ে আক্রান্ত জায়গা ভালো  ভাবে ধুয়ে দিন তার ১ ঘন্টা পর বুপ্রোফেজইন ২৫%এস সি ১ এম এল প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন ( টাটা রালিস -আপ্পলাউড)

সারপ্রয়োগ | Fertilizer Management

প্রতিটি ফলন্ত গাছে বর্ষার আগে ৫০ কেজি জৈবসার ও ১ কেজি না. (২.২ কেজি ইউরিয়া) এবং বর্ষার পরে ৫০ কেজি জৈবসার, ৭৫০ গ্রাম ফ. (৪.৬ কেজি সি. সু. ফসফেট) ও ১ কেজি পটাশ (১.৬৫ কেজি মিউ. পটাশ) দেওয়া হয়। ১ বছর বয়সের প্রতি গাছে বর্ষার আগে ও পরে প্রতিবারে ২০ কেজি জৈবসার, ৫০ গ্রাম না. (১১০ গ্রাম ইউরিয়া), ২৫ গ্রাম ফ. (১৫৫ গ্রাম সি. সু. ফসফেট) ও ২৫ গ্রাম পটাশ (৪০ গ্রাম মিউ. পটাশ) দেওয়া হয়। বয়সের সঙ্গে সারের মাত্রা বেড়ে ফলন্ত গাছের সমান হবে। এ ছাড়া ৫০ গ্রাম জিঙ্ক সালফেট, ২০ গ্রাম বোরাক্স ও ২ গ্রাম অ্যামোনিয়াম মলিবডেট জৈবসারের সঙ্গে মিশিয়ে ২-৩ বছর অন্তর গাছ প্রতি প্রয়োগ করা হয়।

দেহাত নিউট্রিওয়ান বুস্ট মাস্টারের ব্যবহার:

বুস্ট মাস্টার হল সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি একটি সামুদ্রিক শৈবাল এর নির্যাস , যা পরাগায়ন প্রক্রিয়া এবং ফল গঠনে সাহায্য করে। এই পণ্যটি উদ্ভিদের উদ্ভিজ্জ বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়াও, বুস্ট মাস্টার ব্যবহার শিকড়ের বিকাশ উন্নত করে এবং ফসলের পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে।এর ব্যবহারের সাথে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া উন্নত হয়, যা গাছপালাকে সবুজ রঙ দেয়। বুস্ট মাস্টার অ্যাবায়োটিক স্ট্রেসের বিরুদ্ধে ফসলের সহনশীলতা বাড়াতেও সহায়ক। ভালো ফলের জন্য প্রতি লিটার জলে  ২-৩ মিলি বুস্ট মাস্টার ব্যবহার করুন।

দেহাত নিউট্রিওন এনপিকে ০৯:২৭:১৮ এর ব্যবহার  :

দেহাত নিউট্রিওন NPK ০৯:২৭:১৮ এর ব্যবহার নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম যুক্ত , আম গাছে  মুকুল  গঠনে সহায়ক। আমের মুকুল  এবং ছোট ফল ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করতে ও এর ব্যবহার উপকারী প্রমাণিত হয়। নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম (NPK) ছাড়াও এতে সালফার, বোরন এবং মলিবডেনাম রয়েছে। আম গাছে মুকুল আসার সময় প্রতি লিটার জলে  ৫  গ্রাম দেহাত নিউট্রিওন NPK ০৯:২৭:১৮ মিশিয়ে স্প্রে করুন।

গাছে মুকুল আসার  পর আপনার বাগানে আমের গাছগুলো কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়? মন্তব্যের মাধ্যমে আপনার উত্তর আমাদের বলুন. যদি আপনি এই পোস্টে দেওয়া তথ্য পছন্দ করেন, তাহলে এই পোস্টটি লাইক করুন এবং অন্যান্য কৃষকদের সাথে শেয়ার করুন। যাতে আরও বেশি সংখ্যক কৃষক বন্ধুরা এই তথ্যের সুবিধা নিতে পারেন এবং আমের ভালো ফলন পেতে পারেন। এই ধরনের আরও তথ্যের জন্য, এখনই 'হর্টিকালচারাল ' চ্যানেল অনুসরণ করুন।

সচরাচর কিছু জিজ্ঞাস্য | Frequently Asked Question

Q: আমের প্রধান পোকা কোনটি?

A: আম গাছ ও ফলের ক্ষতি করে এমন অনেক পোকামাকড় রয়েছে যার মধ্যে প্রধান হল শোষক  পোকা, মেলি বাগ, ফলের মাছি , স্টেম বোরার,  ইত্যাদি।

Q: ফলন্ত  গাছে কি সার দেওয়া উচিত ?

A: প্রতিটি ফলন্ত গাছে বর্ষার আগে ৫০ কেজি জৈবসার ও ১ কেজি না. (২.২ কেজি ইউরিয়া) এবং বর্ষার পরে ৫০ কেজি জৈবসার, ৭৫০ গ্রাম ফ. (৪.৬ কেজি সি. সু. ফসফেট) ও ১ কেজি পটাশ (১.৬৫ কেজি মিউ. পটাশ) দেওয়া হয়।

Q: কাণ্ড ও ছাল ছিদ্রকারী পোকা:

A: গাছের ছাল ছিদ্র করে পোকা ভিতরে ঢুকে যায়। কাণ্ডের গায়ে পোকার মল দেখা যায়। কাণ্ডের গায়ে অনেক ছিদ্র দেখা যাই। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে একটি পাত্রে  ১ লিটার জলে ক্লোরপিরিফস ২০% ইসি ৫ এম এল জলে গুলে নিন , তুলো ভিজিয়ে নিন  ভেজানো তুলো দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করা হয়।

33 Likes
Like
Comment
Share
Get free advice from a crop doctor

Get free advice from a crop doctor