पोस्ट विवरण
सुने
केला
फल
बागवानी
কৃষি জ্ঞান
DeHaat Channel
1 Apr
Follow

উন্নত কলা চাষের পদ্ধতি / Banana Cultivation

আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে কলা একটি অন্যতম প্রধান ফল। সারা দেশে আনুমানিক ১,৬৪,০০০ হেক্টর জমিতে এই ফলটির চাষ হয়। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, আসাম ও ওড়িশা রাজ্যের মধ্যে কলা চাষ সীমাবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে ফল চাষের মধ্যে এলাকার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে এবং উৎপাদনের নিরিখে প্রথম স্থানে আছে কলা। আনুমানিক ২৫,০০০ হাজার হেক্টর জমিতে এই ফলটির চাষ হয় এবং আনুমানিক ৫,০০,০০০ লক্ষ টন ফল উত্পাদিত হয়। যদিও অন্যান্য আজ্যের তুলনায় হেক্টর প্রতি চারার সংখ্যা ও উত্পাদনশীলতা ২ – ৩ গুণ কম এবং গতানুগতিক পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে ফলনের পরিমাণ ও গুণগত মানও বেশ খারাপ। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর চাষ করলে আমাদের রাজ্যেও উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দৈনিক খাদ্য তালিকায় সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিনের খাবারে অন্তত ৬০ গ্রাম ফলাদি থাকা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে খাবারে আপনার পছন্দের যে কোনো কলা থাকতে পারে।

জাত:

সিঙ্গাপুরী/কাবুলি/বেঁটে গাছ সবুজ কলা - জায়েন্ট গভর্নর, বোরাস্টা, ডোয়ার্ফ ক্যাভেনডিস, অমৃতসাগর, গ্রান্ড নাইনি।

মর্তমান/মাঝারি লম্বা গাছ হলুদ কলা - মর্তমান, মালভোগ, চাঁপা, রসথালি।

কাঁঠালি/লম্বাগাছ হলুদ কলা- কাঁঠালি (জার্মান ও দেশী), ভারতমণি।

. কাঁচকলা- বেহুলা, বাতীসা, বাইশছড়া প্রভিতি

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ :

চারা বসানোর আগে জমি ভালো ভাবে চাষ দিয়ে রোদ খাইয়ে নিতে হবে। চারা লাগানোর ১০ – ১৫ দিন আগে ১.৫ ফুট x ১.৫ ফুট x ১.৫ ফুট করে গর্ত করতে হবে। একটি গর্ত থেকে আর একটির দূরত্ব হবে ৬ ফুট x ৬ ফুট। এর পর প্রতি গর্তে ১০ – ১৫ কেজি গোবর সার, ৬০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০ গ্রাম সি সুপার ফসফেট ও ৫০ গ্রাম মিউরেট অফ পটাশ ও তার সাথে উইপোকা দমনের জন্য দানাদার কীটনাশক  দানা উপরের স্তরের মাটির সঙ্গে ভালো ভাবে মিশিয়ে ভর্তি করতে হবে। চারা বসানোর ১ মাস পর থেকে, প্রতি দেড় মাস অন্তর মোট ৭ বার প্রতি গাছে জৈবসার বাদে উপরোক্ত একই পরিমাণ রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা বসানোর আড়াই মাস পরে ১০ কেজি জৈবসার আর এক বার প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া ৫০ গ্রাম জিঙ্ক সালফেট, ২০ গ্রাম বোরাক্স ও ২ গ্রাম অ্যামোনিয়াম মলিবডেট জৈবসারের সঙ্গে মিশিয়ে বছরে ২ বার  গাছ প্রতি প্রয়োগ করতে হবে ।

চারা লাগানোর সময় :

শীত কাল ছাড়া বছরের  যে কোনও সময়ে চারা লাগানো যেতে পারে। তবে উপযুক্ত সময় হল আষাঢ় – শ্রাবণ ও আশ্বিন- ফাল্গুন  মাসে।

চারা রোপন :

২ – ৩ মাস বয়সে, ১.৫ – ২ কেজি ওজনের, ৯০ সেন্টিমিটার — ১ মিটার উচ্চতায় নীরোগ সরু পাতা যুক্ত তেউড় হল রোপনের জন্য উপযুক্ত চারা। এ ছাড়া তেউড়ের পরিবর্তে ২ – ৩ মাস বয়সের ২ – ২.৫ ফুট উচ্চতায় টিস্যু কালচার করা চারাও লাগানোর উপযুক্ত। তেউড় লাগানোর সময় গোড়ার দিকের মরা পাতাগুলি ছেঁটে পরিষ্কার করে গর্তের মাঝখানে বসিয়ে চার দিক থেকে মাটি দিয়ে ভালো ভাবে গাছের গোড়ায় দিতে হবে।

সেচের ব্যবহার :

ভালো ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সেচ দিতে হবে। চারা রোপণের সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে তখনই সেচ দেয়া উচিত। এছাড়া শুকনো মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দেওয়া দরকার। বর্ষার সময় কলা বাগানে যাতে জল জমতে না পারে তার জন্য নালা থাকা আব্যশক। মোচা আসার পর গাছপ্রতি মাত্র একটি তেউড় বাড়তে দেয়া ভালো।

সার ব্যবহার :

ভালো ফলনের জন্য গাছের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে পরিমাণমতো জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি মাসে প্রতি গাছে ৫০ – ৬৫ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০ গ্রাম সি সুপার ফসফেট ও ৭০ – ৮০ গ্রাম ইউরেট অফ পটাশ প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়াও অনুখাদ্য হিসাবে জিঙ্ক ০.৫% ও বোরন ০.৩ গ্রাম প্রতি লিটার জলে গুলে ৩, ৫, ও ৭ মাস বয়স কালে প্রয়োগ করলে ফলন বৃদ্ধি পাবে।

মোচা কাটা :

কাঁদি আসার আগে, বাঁশের ঠেক দিয়ে গাছকে অবলম্বন দিতে হবে যাতে ঝড়ে বা কাঁদির ভারে গাছ পড়ে না যায়। এর পর কাঁদি সম্পূর্ণ আসার পরে মোচা কেটে নিতে হবে। এর ফলে ফলের ওজন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়াও গ্রীষ্মকালে নীল পলিথিন ও শীতকালে সাদা পলিথিন (৩৫ – ৪০ মিলি মাইক্রন) ব্যাগ দিয়ে কাঁদি ঢেকে দিলে পোকামাকড় ও সূর্যের তাপ থেকে ফলকে রক্ষা করা যায় আর ফলও তাড়াতাড়ি পাকে।

গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া :

বর্ষাকালে, অতিরিক্ত বর্ষার ফলে গাছের গোড়ার মাটি সরে যায়। যে কারণে ভেলির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ছাড়াও গ্রীষ্মকালে ও শীতকালে সেচের সুবিধার জন্য সেচ নালির ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সিগাটোকা রোগ :

এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হল গাছের তৃতীয় ও চতুর্থ কচি পাতায় ছোট ছোট হলুদ দাগ পড়ে। দাগগুলো ধীরে ধীরে বড় হয় ও বাদামী ঝলসানো রঙ ধারণ করে।বেশি আক্রান্ত পাতা আগুনে ঝলসানো বা পোড়া মনে হয়। আক্রান্ত গাছের ফলন ১০-১৫% কম হয়।তীব্র আক্রমণে অনেক পাতা সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে  টেবুকোনাজোল ৫০% + ট্রাইফ্লক্সাইস্ট্রবিন ২৫% (৭৫% WG)

১.৫ গ্রাম প্রতি ২ লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন ( বায়ার -নেটিভ )

কলার গুচ্ছমাথা রোগ / ভাইরাস রোগ :

এ রোগের কারণে কলা গাছের বৃদ্ধি হ্রাস পায় এবং পাতা গুচ্ছাকারে বের হয়। পাতা আকারে খাটো, অপ্রস্থ এবং উপরের দিকে খাড়া থাকে। কচি পাতার কিনারা উপরের দিকে বাকানো এবং হলুদ রংয়ের হয়। পাতার শিরার মধ্যে ঘন সবুজ দাগ পড়ে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে থায়ামেথক্সাম ১২.৬% + ল্যামডা সাইহালোথ্রিন ৯.৫% ZC  ১ ML প্রতি ২  লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন (দেহাত- Entokill ) অথবা ইমিডাক্লোপ্রিড ৭০% WG ৫গ্রাম প্রতি ১৫ লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন ( বায়ার - Admire )

কাণ্ড ছিদ্রকারি পোকা :

কাণ্ড ছিদ্রকারি পোকাগুলি দেখতে খুব ছোটো ছোটো বাদামি থেকে কালো রঙের হয়। পোকাগুলি খুব শক্ত আকারের এবং মাথার দিকে শুঁড়ের মতো থাকে। এরা সাধারণত দিনের বেলা পড়ে থাকা পাতার নিচে ও গাছের খোলার নিচে থাকে। রাতের বেলা খাবারের সন্ধানে বের হয় কিন্তু বেশি দূর পর্যন্ত যায় না। এদের উপর কোন কিছু আক্রমণের সময় এরা মরার মতো পড়ে থাকে এবং বিপদ কেটে গেলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্ত্রী পোকা কাণ্ডের গোঁড়া ও গোঁড়া থেকে একটু উপরে কাণ্ডের ভিতরে ডিম পাড়ে। এছাড়াও জমিতে পড়ে থাকা কলা গাছের কাণ্ডেও ডিম পাড়ে। পোকার ডিম থেকে কিছুদিন পর ছোটো লার্ভা বা গ্রাব বের হয়ে আসে ও কাণ্ডের ভিতরের নরম শাঁস খেয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে থাকে। সুড়ঙ্গ তৈরি হবার ফলে কলা গাছে, জল ও খাদ্য চলাচল ব্যাহত হয় ও গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। সুড়ঙ্গ গুলো বড় হলে গাছের গোঁড়া এবং মাঝ থেকে ভেঙে পড়তে পারে। ৫-৭ দিনের মধ্যে পিউপা গুলো ছোটো পোকাতে পরিণত হয়।

পোকার আক্রমণ কীভাবে বুঝবেন:

উইভিল পোকাগুলো দল বেঁধে কলা গাছকে আক্রমণ করে। এই পোকার আক্রমণ দেখার জন্য গাছের গোঁড়ার খোল খুলে দেখতে পারেন। গাছের গোঁড়া ও কাণ্ডে ছিদ্র দেখা যায় এবং বাগানে ভাঙা কলা গাছ দেখা যাবে। এই পোকাগুলো খুবই অল্প জায়গায় দল বেঁধে ঘোরাফেরা করে। এক বাগান থেকে অন্য বাগানে আক্রান্ত কলা গাছ থেকেই ছড়ায়। নতুন বাগান স্থাপনের সময় পরিচ্ছন্ন চারা রোপণ করতে হবে, যাতে এই পোকার সংক্রমণ কমানো যায়। পুরনো বাগান থেকে চারা নিয়ে লাগালে, চারা গুলোর গোঁড়া অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিতে হবে।

প্রতিকার :

জমি পরিছন্ন রাখতে হবে। গাছের ভাল ফলনের জন্য প্রতি তিন থেকে চার মাস পর পর জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে। জৈব সার দেওয়ার সময় গাছ থেকে এক ফুট দূরত্বে দিতে হবে। যে সমস্ত কৃষকরা মালচিং ব্যাবহার করেন, তারা যেন অবশ্যই গাছের গোঁড়া থেকে দূরে মালচিং করেন। কেননা এই পোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য গাছের গোঁড়া পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। পুরো বাগানকে আগাছা মুক্ত রাখা প্রয়োজন। সদ্য কাটা কলা গাছ বাগান থেকে বের করে দিতে হবে। উইভিল পোকা গুলো এরকম পড়ে থাকা গাছে বংশবিস্তার করে। চারাগাছ(তেউড়) লাগানোর জন্য গর্ত তৈরি করার পর সরাসরি সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রতি গর্তে ২০-৩০ গ্রাম ফিউরাডন প্রয়োগ করতে হবে। চারাগাছ (তেউড়) বসানোর আগে ১মিলি  ক্লোরোপাইরিফস  প্রতি লিটার জলে গুলে তেউড় গুলো এক ঘণ্টা ডুবিয়ে রেখে দিয়ে রোপণ করতে হবে। এছাড়া পরিণত গাছের গোঁড়াতেও ২.৫ মিলি ক্লোরোপাইরিফসপ্রতি লিটার জলে গুলে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। গাছ কেটে দেওয়ার পর গাছের গোঁড়া পরিষ্কার করে সেখানে কার্বারিল ১ মিলিলিটার প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

. কোন রোগ বা পোকা আপনার বাদাম ফসলকে ক্ষতি  করার সম্ভাবনা বেশি? মন্তব্যের মাধ্যমে আপনার উত্তর আমাদের বলুন. কৃষি সম্পর্কিত তথ্যের জন্য, আপনি দেহাত টোল ফ্রি নম্বর ১৮০০-১০৩৬-১১ ০-এ যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। এছাড়াও, 'কিসান ডাক্তার' চ্যানেল অনুসরণ করে আপনি ফসলের সঠিক যত্ন এবং সুরক্ষার জন্য আরও তথ্য পেতে পারেন। এর সাথে, এই পোস্টটি লাইক এবং শেয়ার করে, আপনি এই তথ্যটি অন্য কৃষকদের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারেন।

সচরাচর কিছু জিজ্ঞাস্য | Frequently Asked Question

Q: সিঙ্গাপুরী কোন জাত চাষ করা উচিত ?

A: - জায়েন্ট গভর্নর, বোরাস্টা, ডোয়ার্ফ ক্যাভেনডিস, অমৃতসাগর, গ্রান্ড নাইনি।

Q: সিগাটোকা রোগ কিভাবে দমন করা যায় ?

A: এটি নিয়ন্ত্রণ করতে  টেবুকোনাজোল ৫০% + ট্রাইফ্লক্সাইস্ট্রবিন ২৫% (৭৫% WG)

১.৫ গ্রাম প্রতি ২ লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন ( বায়ার -নেটিভ )

Q: কলার গুচ্ছমাথা রোগ কিভাবে দমন করা যায় ?

A: এটি নিয়ন্ত্রণ করতে থায়ামেথক্সাম ১২.৬% + ল্যামডা সাইহালোথ্রিন ৯.৫% ZC  ১ ML প্রতি ২  লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন (দেহাত- Entokill ) অথবা ইমিডাক্লোপ্রিড ৭০% WG ৫গ্রাম প্রতি ১৫ লিটার জলে গুলে স্প্রে করুন । ব্যবহার করুন ( বায়ার - Admire )

22 Likes
Like
Comment
Share
फसल चिकित्सक से मुफ़्त सलाह पाएँ

फसल चिकित्सक से मुफ़्त सलाह पाएँ